শিরোনামঃ
বোয়ালখালীতে বিদ্যুৎ সংকট নিরসনের দাবিতে মানববন্ধন করেছেন বিএনপির নেতা-কর্মীরা অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রীর DO লেটারকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে এবার প্রশ্নবিদ্ধ ট্রাস্টি বোর্ড কোচিং-প্রাইভেট ছেড়ে ক্লাসমুখী হওয়ার আহ্বান চট্টগ্রাম ৮ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য প্রার্থী ডা. আবু নাছেরের চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবের আজীবন সদস্য হয়েছেন বিশিষ্ট আইটি ব্যবসায়ী ও PIHR এর চেয়ারম্যান কামরুল কায়েস চৌধুরী সোশ্যাল মিডিয়ায় সাইবার অ্যাটাকের শিকার ট্রাস্টি দীপক কুমার পালিত শ্রী শ্রী শ্যাম চাঁদ হরি মন্দির গীতা শিক্ষালয়ে অভিভাবক সমাবেশ অনুষ্ঠিত  চট্টগ্রাম মহানগর কমিটির উদ্যোগে অনুষ্ঠিত হয় বাংলাদেশ সংখ্যালঘু সমঅধিকারের পরিচিতি পর্ব পশ্চিম কধুরখীল কৈবর্তপাড়া উন্নয়ন ও পঞ্চায়েত কমিটির আত্মপ্রকাশ চট্টগ্রাম মহানগর কমিটি সাজাতে বাংলাদেশ সংখ্যালঘু সমধিকারের প্রস্তুতি মিটিং চট্টগ্রামে সনাতনী ধর্মীয় ব্যান্ড ‘টিম শ্রীকৃষ্ণ’-এর জমকালো আত্মপ্রকাশ
বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২:৩৫ অপরাহ্ন
Notice :
Wellcome to our website...

শহীদ বুদ্ধিজীবীদের সর্বস্তরের মানুষের ফুলেল শ্রদ্ধায় স্মরণ

ঢাকা অফিস :: / ১৭৪ Time View
রবিবার, ১৪ ডিসেম্বর, ২০২৫

 

আজ ১৪ ডিসেম্বর (রোববার) শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবস । ১৯৭১ সালের এ দিনে দখলদার পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী ও তাদের দোসর রাজাকার আল-বদর, আল-শামসরা বাংলার শ্রেষ্ঠ সন্তান বুদ্ধিজীবীদের হত্যা করে। তাদের স্মরণে রাজধানীর শহীদ বুদ্ধিজীবী কবরস্থানে শ্রদ্ধা জানাতে ভিড় জমিয়েছেন সর্বস্তরের মানুষ।

 

রোববার (১৪ ডিসেম্বর) রাজধানীর মিরপুরের শহীদ বুদ্ধিজীবী কবরস্থান ঘুরে সর্বস্তরের মানুষের শ্রদ্ধা নিবেদনের এমন চিত্র দেখা গেছে।

 

সরেজমিনে, দলে দলে বিভিন্ন দলীয় ব্যনারে স্লোগান দিয়ে শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে দেখা গেছে অনেককে। এছাড়াও, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের সচেষ্ট ভুমিকা পালন করতে দেখা যায়।

 

১৪ ডিসেম্বর (রোববার) শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবস । ১৯৭১ সালের এ দিনে দখলদার পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী ও তাদের দোসর রাজাকার আল-বদর, আল-শামসরা নির্মমভাবে বাংলার শ্রেষ্ঠ সন্তান বুদ্ধিজীবীদের হত্যা করে। দেশের স্বাধীনতা ও মুক্তি-সংগ্রামের ইতিহাসে দিনটি কালো অধ্যায় হিসেবে বিবেচনা করা হয়। এদিন জাতি মহান মুক্তিযুদ্ধে ঘৃণ্য হত্যাকাণ্ডের শিকার তার শ্রেষ্ঠ সন্তানদের শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করে।

 

নয় মাসের রক্তক্ষয়ী মুক্তিসংগ্রামের শেষলগ্নে পুরো দেশের মানুষ যখন চূড়ান্ত বিজয়ের দ্বারপ্রান্তে, ঠিক তখনই এ দেশীয় নরঘাতক রাজাকার, আলবদর, আলশামস ও শান্তি কমিটির সদস্যরা মেতে ওঠে বুদ্ধিজীবী হত্যাযজ্ঞে। বিজয়ের চূড়ান্ত মুহূর্তে বাঙালিকে মেধাশূন্য করার এ নৃশংস নিধনযজ্ঞ সেদিন গোটা জাতিসহ পুরো বিশ্বকেই হতবিহ্বল করে দেয়।

 

পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর আত্মসমর্পণের মাত্র দুদিন আগে, ১৯৭১ সালের ১৪ ডিসেম্বর রাতের অন্ধকারে ঘাতকচক্র কেবল ঢাকা শহরেই প্রায় দেড়শ’ বুদ্ধিজীবী ও বিভিন্ন পেশার কৃতী মানুষকে চোখ বেঁধে নিয়ে যায় অজ্ঞাত স্থানে। সেই রাতে তালিকা ধরে ধরে শিক্ষক, সাংবাদিক, চিকিৎসক, প্রকৌশলী, আইনজীবী, শিল্পী-সাহিত্যিক, সংস্কৃতিসেবী ও পদস্থ সরকারি-বেসরকারি কর্মকর্তাদের ঘর থেকে টেনে-হিঁচড়ে বের করে নিয়ে যাওয়া হয়। পরে হত্যা করে ফেলে রাখা হয় নিস্তব্ধ অন্ধকারে।

 

 

পরদিন সকালে ঢাকার মিরপুরের ডোবা-নালা ও রায়েরবাজার ইটখোলাতে বিক্ষিপ্তভাবে পড়ে থাকতে দেখা যায় অনেক নিথর দেহ। কারও শরীর বুলেটবিদ্ধ, কারও অমানুষিক নির্যাতনে ক্ষতবিক্ষত। হাত পেছনে বেঁধে বেয়নেট দিয়ে খুঁচিয়ে খুঁচিয়ে হত্যা করা হয়েছিল অনেককে।

 

স্বাধীনতার ঊষালগ্নে উন্মুখ মানুষ স্বজন হারানোর সেই কালরাত্রির কথা জানতে পেরে শিউরে উঠেছিল। স্থবির হয়ে গিয়েছিল সবকিছু।

 

হত্যার পূর্বে যে তাদের নির্যাতন করা হয়, সে তথ্যও বের হয়ে আসে। ১৯৭২ সালে বাংলাদেশে জাতীয়ভাবে প্রকাশিত বুদ্ধিজীবী দিবসের সংকলন, পত্রিকায় প্রকাশিত সংবাদ ও আন্তর্জাতিক সংবাদ সাময়িকী নিউজউইকের সাংবাদিক নিকোলাস টমালিনের রচিত নিবন্ধ থেকে জানা যায় যে, নিহত শহীদ বুদ্ধিজীবীর সংখ্যা মোট এক হাজার ৭০ জন।

 

 

বাঙালি জাতির দীর্ঘ মুক্তিসংগ্রামে এই বুদ্ধিজীবীরা মেধা, মনন ও লেখার মাধ্যমে স্বাধীনতার সংগঠকদের প্রেরণা জুগিয়েছেন। দেখিয়েছেন মুক্তির পথ। গোটা জাতিকে উদ্দীপ্ত করেছেন অধিকার আদায়ের সংগ্রামে। স্বাধীন রাষ্ট্রের জন্ম যেন কিছুতেই সহ্য হচ্ছিল না স্বাধীনতাবিরোধী চক্রের।

 

১৪ ডিসেম্বরকে বুদ্ধিজীবীদের নিধনযজ্ঞের দিন হিসেবে স্মরণ করা হলেও মূলত ১০ ডিসেম্বর ইতিহাসের এ ঘৃণ্যতম অপকর্মের সূচনা হয়। সপ্তাহজুড়ে এদের তালিকায় একে একে উঠে আসে বুদ্ধিদীপ্ত সাহসী মানুষের নাম। মূলত ১০ ডিসেম্বর থেকেই রাতের আঁধারে তালিকাভুক্ত বুদ্ধিজীবীদের বাসা থেকে চোখ বেঁধে রায়েরবাজার ও মিরপুর বধ্যভূমিতে নিয়ে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়।

 

শহীদ বুদ্ধিজীবীদের স্মরণে ঢাকার মিরপুরে প্রথম শহীদ বুদ্ধিজীবী স্মৃতিসৌধ নির্মিত হয়। ১৯৯১ সালে ঢাকার রায়েরবাজারে শহীদ বুদ্ধিজীবী স্মৃতিসৌধ নামে আরেকটি স্মৃতিসৌধ নির্মাণ শুরু হয়, যা ১৯৯৯ সালের ১৪ই ডিসেম্বর উদ্বোধন করা হয়।

 

 

প্রতিবছর ১৪ ডিসেম্বর শোকের আবহে শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবস পালিত হয়ে থাকে। দেশের সর্বত্র জাতীয় পতাকা অর্ধনমিত রাখা হয়। ওড়ে শোকের প্রতীক কালো পতাকা।

 

দেশব্যাপী বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও পেশাজীবী সংগঠন শহীদদের স্মৃতির উদ্দেশে পুষ্পার্ঘ্য অর্পণ, মিলাদ ও দোয়া মাহফিল, আলোচনা সভা, গান, আবৃত্তি, মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক চলচ্চিত্র ও আলোকচিত্র প্রদর্শনী, স্বেচ্ছায় রক্তদান, চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতার আয়োজন করে।

 

 

শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবস উপলক্ষে আজ সকাল ৭টা ৬ মিনিটে প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস মিরপুর শহীদ বুদ্ধিজীবী স্মৃতিসৌধে পুষ্পস্তবক অর্পণ করবেন। এরপর মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক উপদেষ্টার নেতৃত্বে শহীদ বুদ্ধিজীবী পরিবারের সদস্যরা এবং যুদ্ধাহত ও বীর মুক্তিযোদ্ধারা সকালে মিরপুর বুদ্ধিজীবী স্মৃতিসৌধ এবং রায়েরবাজার বধ্যভূমি স্মৃতিসৌধে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন। এরপর সর্বস্তরের মানুষের জন্য উন্মুক্ত করে দেওয়া হয়।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category