চসিক মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন বলেছেন, ১৯৯১ ও ১৯৯৬ সালের নির্বাচন নিয়ে আজও তেমন কোনো প্রশ্ন ওঠে না, কারণ ওই নির্বাচনগুলো ছিল স্বচ্ছ ও গ্রহণযোগ্য। একইভাবে ২০০১ সালে বিএনপির নেতৃত্বে চারদলীয় জোট ক্ষমতায় আসার নির্বাচন নিয়েও বড় কোনো বিতর্ক নেই। সে সময় সব পক্ষ নির্বাচন প্রক্রিয়া সরাসরি দেখেছে এবং স্বচ্ছতার সঙ্গে কাজ করেছে।
মঙ্গলবার (১৩ জানুয়ারি) চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবের জুলাই বিপ্লব স্মৃতি হলে প্রেস ইনস্টিটিউট বাংলাদেশের (পিআইবি) আয়োজনে, চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাব ও চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন সাংবাদিক ইউনিয়নের (সিএমইউজে) সহযোগিতায় চট্টগ্রাম জেলার সাংবাদিকদের ‘নির্বাচনকালীন সাংবাদিকতা বিষয়ক প্রশিক্ষণ’ কর্মশালার সমাপনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
ডা. শাহাদাত হোসেন বলেন, ১৯৯৪ সালে বিএনপি ক্ষমতায় থাকাকালে এবিএম মহিউদ্দিন চৌধুরী নির্বাচন করেছিলেন এবং সে নির্বাচন নিয়েও কোনো প্রশ্ন ওঠেনি। জোট সরকারের আমলেও তিনি আবার মেয়র নির্বাচিত হন, তখনও নির্বাচন নিয়ে বিতর্ক হয়নি।
এর কারণ ব্যাখ্যা করে তিনি বলেন, বিএনপি কখনও নির্বাচনে ‘নগ্ন হস্তক্ষেপ’ করেনি।
তিনি বলেন, গত ১৬ বছরে আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে আ জ ম নাছির উদ্দীন ও রেজাউল করিম চৌধুরীর ক্ষেত্রে যে পরিস্থিতি দেখা গেছে, মহিউদ্দিন চৌধুরীর সময় সে রকম চিত্র দেখা যায়নি।
এতে নির্বাচন ব্যবস্থার নিরপেক্ষতা ও গ্রহণযোগ্যতা নিয়ে জনমনে প্রশ্ন তৈরি হয়েছে।
মেয়র বলেন, বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে সাংবাদিকতা কেবল খবর পরিবেশনেই সীমাবদ্ধ ছিল না। গণমাধ্যম নেতৃত্ব গঠন, রাজনৈতিক ইমেজ নির্মাণ এবং গণআন্দোলনের গতিপথ নির্ধারণেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। বিশেষ করে আশি ও নব্বইয়ের দশকে ছাত্ররাজনীতি ও জাতীয় রাজনীতির বিকাশে গণমাধ্যম ছিল এক অনিবার্য শক্তি।
চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবের সভাপতি জাহিদুল করিম কচির সভাপতিত্বে সাধারণ সম্পাদক গোলাম মাওলা মুরাদের পরিচালনায় অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন পিআইবির পরিচালক (প্রশাসন) কাজী মোহাম্মদ তৌহিদুল আনোয়ার। বক্তব্য দেন চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবের উপকমিটির উপদেষ্টা মইনুদ্দীন কাদেরী শওকত, সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও ডেইলি পিপলস ভিউ সম্পাদক ওসমান গণি মনসুর, সিনিয়র সহ-সভাপতি মুস্তফা নঈম ও পিআইবি প্রশিক্ষক জিলহাজ উদ্দিন নিপুন। প্রশিক্ষণ কর্মশালায় অংশকারীদের মধ্যে বক্তব্য দেন মোস্তাফিজুর রহমান, মনিরুল ইসলাম পারভেজ, মাইনুদ্দীন, জীবন মুছা ও আজিজা হক পায়েল।
উপস্থিত ছিলেন ক্লাবের সহসভাপতি ডেইজী মউদুদ, অর্থ সম্পাদক আবুল হাসনাত, সাংস্কৃতিক সম্পাদক রূপম চক্রবর্তী, ক্রীড়া সম্পাদক রুবেল খান, গ্রন্থাগার সম্পাদক মো. শহীদুল ইসলাম, সমাজসেবা ও আপ্যায়ন সম্পাদক হাসান মুকুল, প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক ফারুক আবদুল্লাহ, কার্যকরী সদস্য সাইফুল ইসলাম শিল্পী ও আরিচ আহমেদ শাহ।
দুদিনব্যাপী প্রশিক্ষণ কর্মশালায় বিভিন্ন গণমাধ্যমে কর্মরত ১০০ সাংবাদিক অংশ নেন।