চট্টগ্রামের ভোটার বা বাসিন্দা কোনটাই না হওয়া সত্ত্বেও বৌদ্ধ ধর্মীয় কল্যাণ ট্রাস্টের চট্টগ্রামের ট্রাস্টির গুরুত্বপূর্ণ পদের দায়িত্ব পেয়ে বসে আছেন ঢাকায় বসবাসরত কর্মজীবী এক ব্যক্তি
এই বিষয় নিয়ে সংশয় তৈরি হয়েছে চট্টগ্রামে রাজনৈতিক কর্মীদের মাঝে
ধর্ম মন্ত্রণালয় থেকে স্বাক্ষরিত স্মারক প্রকাশ হওয়ার পরপরই ট্রাস্টি নির্ধারণের মত গুরুত্বপূর্ণ এই বিষয় নিয়ে সারা দেশব্যাপী নানা আলোচনা সমালোচনা ঝর উঠেছে।
অভিযোগের আঙ্গুল উঠেছে ট্রাস্টি বোর্ডে যারা এই ট্রাস্টিদের নির্বাচিত করেছেন এবং তাদের দায়িত্ব দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তাদের দিকে
দীর্ঘ ১৭ বছর ধরে কারা নির্যাতিত, বিভিন্ন হামলা মামলার শিকার এবং নানাভাবে লাঞ্ছিত হওয়ার পরও অনেক কর্মীরা এবারের ট্রাস্টি বোর্ডে মূল্যায়িত হয়নি বলে জানিয়েছে বেশ কিছু ট্রাস্টি পদপ্রার্থী।
এ বিষয়ে রুবেল বড়ুয়া নামের একজন বৌদ্ধ ধর্মীয় কল্যাণ ট্রাস্টের ট্রাস্টি পদপ্রার্থী থেকে জানতে চাইলে তিনি খবর প্রতিদিনকে অভিমানের ক্ষোভ ঝেরে বলেন আমি বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপির একজন কারা নির্যাতিত কর্মী।গত ১৭ বছর ধরে দল ও জনগণের অধিকার আদায়ে প্রকাশ্যে বিগত বছরগুলোতে আমি অনেক মামলা হামলার শিকার হয়েছি জেল খেটেছিও অনেকবার। জুলাই গণঅভ্যুত্থানের ৫ই আগস্টে আওয়ামী সরকার পতন হওয়ার পর আমাকে বৌদ্ধ ধর্মীয় কল্যাণ ট্রাস্টের ট্রাস্টি হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল।দীর্ঘ এই সময়টা আমি খুব গুরুত্বের সাথে আমার উপর অর্পিত প্রত্যেকটি দায়িত্ব পালন করি।আমার প্রত্যেকটি কাজ ও দায়িত্ব পালন সম্পর্কে আমার দলের সকল নেতা এবং মন্ত্রণালয় ও ট্রাস্টি বোর্ডের সকলে এ বিষয়ে অবগত রয়েছেন।তবে সরকার গঠন হওয়ার ৬ মাস পর এবার ধর্ম মন্ত্রণালয়ের নির্দেশে আবারও নতুন করে ট্রাস্টি বোর্ড গঠন করা হয়।চট্টগ্রামের পুনরায় আবার ট্রাস্টি পদে আমাকে বহাল রাখার জন্য আমি অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রী চট্টগ্রামে যিনি আমাদের সকলের রাজনৈতিক অভিভাবক জনাব আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীর (সুপারিশকৃত) স্বাক্ষরিত DO লেটার সহ বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপির চট্টগ্রাম মহানগর শাখার ও আমার সংসদীয় আসন ৯ এর এমপি আবু সুফিয়ানের সুপারিশ সহ স্বাক্ষরিত DO লেটার ধর্ম মন্ত্রণালয় ও ট্রাস্টি বোর্ডে পাঠাই।
তবে অতীব দুঃখের বিষয় সরকার ও দলের গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের সুপারিশ পত্র ট্রাস্টি বোর্ডকে দেওয়ার পরও বোর্ড তা সঠিকভাবে মূল্যায়ন করেনি।
চট্টগ্রামে আমি বিএনপির রাজনীতির জন্য রাজপথে থেকে আমার জীবনের বাজি রেখে সর্বোচ্চটা করেছি।
আমার বাড়ি চট্টগ্রামে আমি ভোটার চট্টগ্রামের আর আমি থাকিও চট্টগ্রামে কিন্তু মন্ত্রণালয় ও ট্রাস্টি বোর্ড একজন ঢাকার বাসিন্দা কে ট্রাস্টির মত গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব দিয়ে বসলো তাও আবার চট্টগ্রামের।
এখন সবার মনে প্রশ্ন আসে চট্টগ্রামে কি সত্যি সত্যি যোগ্য কোন ব্যক্তি ছিল না এই চট্টগ্রামের ট্রাস্টির দায়িত্ব নেওয়ার জন্যে নাকি ট্রাস্টি নির্ধারণের ভেতরে চলেছে অন্যকিছু।
আমি মনে করি ট্রাস্টি বোর্ডের এই সিদ্ধান্ত শুধু আমাকে নয় পুরো চট্টগ্রামকে ছোট করে ট্রাস্টি বোর্ডকে প্রশ্নবিদ্ধ করেছে
আমি চাই সরকার এ বিষয়টিকে সঠিক নজরদারিতে নিবেন এবং একটা সুষ্টু সিদ্ধান্ত গ্রহণ করবেন।
তবে চট্টগ্রামের বিশিষ্ট রাজনৈতিক ব্যক্তিরা বলছেন এ বিষয়ে যদি মন্ত্রণালয় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন না করে এবং দ্রুত একটি সিদ্ধান্ত না নেই তবে তা রাজনৈতিক কর্মীদের মাঝে একটি বড় ধাক্কা সৃষ্টি করবে সাথে এটি ভবিষ্যতে বিএনপি দলের জন্য রাজনৈতিকভাবে অনেক বড় ক্ষতির কারণ হতে পারে বলেও তারা মনে করছেন।
অনুসন্ধান রিপোর্ট : বোয়ালখালীর সংবাদ প্রতিদিন